26.1 C
Dhaka
শনিবার, নভেম্বর ৭, ২০২৬

মৃত্যু নিবন্ধন আবেদন পত্র প্রিন্ট করার নিয়ম (আপডেট)

বাংলাদেশে কারও মৃত্যুর পর সরকারি মৃত্যু নিবন্ধন সম্পন্ন করতে অনলাইনে আবেদন করা যায়। আবেদন জমা দেওয়ার পর আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি সংশ্লিষ্ট নিবন্ধকের কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ জমা দিতে হয়। আবার অনেকে অনলাইনে আবেদন করার পর আবেদনপত্রটি কীভাবে প্রিন্ট করবেন, আবেদন নম্বর হারিয়ে গেলে কী করবেন, কিংবা নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পর মৃত্যু সনদ কীভাবে যাচাই বা পুনর্মুদ্রণ করবেন—এসব বিষয় জানতে চান।

এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি: মৃত্যু নিবন্ধন আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি এবং চূড়ান্ত মৃত্যু নিবন্ধন সনদ এক জিনিস নয়। আবেদনপত্র প্রিন্ট করে জমা দেওয়ার মাধ্যমে নিবন্ধন প্রক্রিয়া এগোয়; আর নিবন্ধন অনুমোদিত হলে সরকারি মৃত্যু নিবন্ধন সনদ পাওয়া যায়।

মৃত্যু নিবন্ধন আবেদনপত্র প্রিন্ট করার নিয়ম

অনলাইনে মৃত্যু নিবন্ধনের আবেদন করার পর আবেদনপত্র প্রিন্ট করার জন্য নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে।

ধাপ ১: সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন

প্রথমে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের সরকারি ওয়েবসাইট BDRIS এ প্রবেশ করুন। ওয়েবসাইটের হোমপেজে জন্ম নিবন্ধন ও মৃত্যু নিবন্ধনসংক্রান্ত একাধিক সেবা দেখা যাবে। সেখান থেকে মৃত্যু নিবন্ধন অংশের ‘মৃত্যু নিবন্ধন আবেদন প্রিন্ট’ অপশনটি নির্বাচন করুন।

ধাপ ২: আবেদনসংক্রান্ত তথ্য দিন

আবেদনপত্র প্রিন্টের পেজে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার সময় পাওয়া আবেদন নম্বর বা পোর্টালে চাওয়া পরিচিতিমূলক তথ্য সঠিকভাবে লিখুন। তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনপত্রের রসিদ বা সংরক্ষিত কপি সামনে রাখলে সুবিধা হবে।

ধাপ ৩: আবেদনপত্র খুঁজে বের করুন

প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার পর অনুসন্ধান বা পরবর্তী নির্দেশনা অনুসরণ করুন। আবেদনটি সিস্টেমে পাওয়া গেলে আবেদনকারীর দেওয়া তথ্য ও নিবন্ধনসংক্রান্ত বিবরণ দেখার সুযোগ থাকতে পারে। নাম, জন্ম নিবন্ধন নম্বর, মৃত্যুর তারিখ এবং আবেদন নম্বর মিলিয়ে নিন।

ধাপ ৪: প্রিন্ট অপশনে ক্লিক করুন

আবেদনপত্রটি প্রদর্শিত হলে প্রিন্ট অপশনে ক্লিক করুন। কম্পিউটার থেকে প্রিন্টার সংযুক্ত থাকলে সরাসরি প্রিন্ট করা যাবে। প্রিন্টার না থাকলে Print অপশন থেকে Save as PDF নির্বাচন করে আবেদনপত্রটি পিডিএফ ফাইল হিসেবে সংরক্ষণ করতে পারেন।

ধাপ ৫: আবেদনপত্র জমা দিন

প্রিন্ট করা আবেদনপত্রে কোনো তথ্য ভুল আছে কি না যাচাই করুন। এরপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সংশ্লিষ্ট জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধকের কার্যালয়ে জমা দিন। অনলাইনে আবেদন করলেই নিবন্ধন সম্পন্ন হয়ে যায় না; নিবন্ধকের যাচাই ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া শেষ হতে হয়।

আরো পড়ুন- অনলাইনে মৃত্যু নিবন্ধন আবেদনের নিয়ম (আপডেট)

মৃত্যু নিবন্ধন আবেদন অনলাইন করার নিয়ম

যাঁরা এখনো অনলাইনে মৃত্যু নিবন্ধনের আবেদন করেননি, তাঁরা BDRIS ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে পারেন। অনলাইনে আবেদন করার সময় মৃত ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য, মৃত্যুর বিবরণ, ঠিকানা এবং আবেদনকারীর পরিচয় দিতে হয়।

অনলাইনে আবেদন করার ধাপগুলো হলো:

1. প্রথমে BDRIS সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।

2. মৃত্যু নিবন্ধন অংশ থেকে ‘নতুন মৃত্যু নিবন্ধন আবেদন’ নির্বাচন করুন।

3. মৃত ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন নম্বর ও জন্মতারিখ দিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করুন।

4. মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর তারিখ ও মৃত্যুর কারণ উল্লেখ করুন।

5. মৃত ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রীর তথ্য প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পূরণ করুন।

6. মৃত্যুর স্থান এবং মৃত্যুর সময় বসবাসের ঠিকানা নির্বাচন ও লিখুন।

7. আবেদনকারীর সঙ্গে মৃত ব্যক্তির সম্পর্ক, নিজের পরিচয় এবং যোগাযোগের তথ্য দিন।

8. পোর্টালে নির্দেশিত প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ছবি আপলোড করুন।

9. সব তথ্য ভালোভাবে যাচাই করে আবেদন জমা দিন।

10. মোবাইলে পাঠানো OTP দিয়ে আবেদনকারীর পরিচয় যাচাই করে সাবমিট করুন।

আবেদন জমা দেওয়ার পর আবেদন নম্বর, আবেদন জমার তারিখ এবং সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কার্যালয়ের তথ্য সংরক্ষণ করুন। আবেদন নম্বর ভবিষ্যতে আবেদন অনুসন্ধান, প্রিন্ট এবং সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগের সময় প্রয়োজন হতে পারে। BDRIS-এর অনলাইন আবেদন ফরমে মৃত ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন নম্বর, মৃত্যুর তারিখ, মৃত্যুর কারণ, ঠিকানা এবং আবেদনকারীর তথ্য চাওয়া হয়।

মৃত্যু নিবন্ধন আবেদনপত্র লেখার নিয়ম

অনলাইনে আবেদন না করে সরাসরি নিবন্ধকের কার্যালয়ে কাগজে আবেদন করতে চাইলে নির্ধারিত মুদ্রিত ফরম ব্যবহার করা যায়। তবে আবেদনপত্রে দেওয়া তথ্য যেন মৃত ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় ও সরকারি নথির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।

মৃত্যু নিবন্ধন আবেদনপত্র লেখার সময় সাধারণত নিচের তথ্যগুলো প্রয়োজন হয়:

মৃত ব্যক্তির নাম: বাংলা ও ইংরেজিতে সঠিক নাম লিখতে হবে।

জন্ম নিবন্ধন নম্বর: মৃত ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন নম্বর দিতে হবে।

জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর: প্রযোজ্য ক্ষেত্রে এনআইডি নম্বর লিখতে হবে।

জন্ম ও মৃত্যুর তারিখ: জন্মতারিখ এবং মৃত্যুর সঠিক তারিখ উল্লেখ করতে হবে।

মৃত্যুর স্থান: যে স্থান বা ঠিকানায় মৃত্যু হয়েছে, তার বিস্তারিত বিবরণ দিতে হবে।

মৃত্যুর কারণ: জানা তথ্য ও প্রাসঙ্গিক চিকিৎসা নথির সঙ্গে মিল রেখে উল্লেখ করতে হবে।

পিতা-মাতার পরিচয়: মৃত ব্যক্তির পিতা ও মাতার নাম লিখতে হবে।

স্বামী বা স্ত্রীর তথ্য: প্রযোজ্য ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীর নাম ও প্রয়োজনীয় পরিচয় দিতে হবে।

আবেদনকারীর পরিচয়: মৃত ব্যক্তির সঙ্গে আবেদনকারীর সম্পর্ক, নাম, জন্ম নিবন্ধন নম্বর ও যোগাযোগের তথ্য দিতে হবে।

আবেদনপত্রে কোনো তথ্য অনুমান করে লেখা উচিত নয়। বিশেষ করে মৃত্যুর তারিখ, জন্ম নিবন্ধন নম্বর ও ঠিকানায় ভুল হলে আবেদন যাচাইয়ের সময় সমস্যা হতে পারে। তথ্যের কোনো অংশ জানা না থাকলে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধকের সঙ্গে কথা বলে কীভাবে তা পূরণ করতে হবে, জেনে নেওয়া ভালো।

মৃত্যু নিবন্ধন ফরম ডাউনলোড করবেন যেভাবে

মৃত্যু নিবন্ধনের জন্য আবেদনপত্রের মুদ্রিত ফরম প্রয়োজন হলে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ফরম এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করতে পারেন। সরকারি ওয়েবসাইটে ‘মৃত্যু নিবন্ধন আবেদনপত্র’ নামে ফরমের ডাউনলোড সুবিধা রয়েছে।

ফরম সংগ্রহের ক্ষেত্রে নিচের নিয়ম অনুসরণ করুন:

1. রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।

2. ওয়েবসাইটের ডাউনলোড বা ফরমসংক্রান্ত অংশে যান।

3. ‘মৃত্যু নিবন্ধন আবেদনপত্র’ লেখা ফরমটি খুঁজুন।

4. View বা Download অপশনে ক্লিক করে ফাইলটি খুলুন।

5. ফাইলটি PDF আকারে থাকলে ডাউনলোড করে প্রিন্ট করুন।

তবে মনে রাখতে হবে, সরকারি ফরম ডাউনলোড করে হাতে পূরণ করা এবং BDRIS-এ অনলাইনে আবেদন করে আবেদনপত্র প্রিন্ট করা দুটি আলাদা পদ্ধতি। অনলাইনে আবেদন করলে জমা দেওয়া আবেদনের প্রিন্ট কপি সংশ্লিষ্ট নিবন্ধকের কাছে জমা দিতে হয়। আর কাগজে আবেদন করলে নিবন্ধক নির্ধারিত নিয়মে তথ্য অনলাইন সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করেন।

মৃত্যু নিবন্ধন আবেদনপত্রের সঙ্গে যেসব কাগজপত্র লাগতে পারে

মৃত্যু নিবন্ধনের আবেদন যাচাইয়ের জন্য মৃত ব্যক্তির পরিচয়, মৃত্যু এবং আবেদনকারীর সম্পর্কের প্রমাণ প্রয়োজন হয়। মৃত্যুর পরিস্থিতি ও নিবন্ধন কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভিন্ন হতে পারে।

সাধারণভাবে যেসব নথি প্রস্তুত রাখা ভালো:

মৃত ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন সনদ বা নম্বর।

মৃত ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, যদি থাকে।

হাসপাতাল বা চিকিৎসকের দেওয়া মৃত্যুসংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র, যদি পাওয়া যায়।

দাফন বা সৎকারের প্রমাণপত্র, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মৃত্যুর প্রত্যয়ন, প্রয়োজন হলে।

আবেদনকারীর জন্ম নিবন্ধন সনদ বা জাতীয় পরিচয়পত্র।

মৃত ব্যক্তির সঙ্গে আবেদনকারীর সম্পর্কের প্রমাণ, প্রয়োজন হলে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের BDRIS আবেদন ফরমে হাসপাতালের মৃত্যুসনদ, কবরস্থান বা সৎকারের রসিদ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কাউন্সিলরের মৃত্যুর প্রত্যয়নের মতো সংযুক্তির উল্লেখ রয়েছে। তবে সব এলাকার জন্য একই তালিকা বাধ্যতামূলক ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের নিবন্ধক কার্যালয় থেকে আপনার আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় নথির তালিকা নিশ্চিত করুন।

মৃত্যু সনদ কিভাবে করব?

মৃত্যু সনদ পেতে হলে প্রথমে মৃত ব্যক্তির মৃত্যু নিবন্ধন করতে হবে। বাংলাদেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত নিবন্ধক কার্যালয়ের মাধ্যমে এই কাজ সম্পন্ন হয়।

সাধারণত মৃত ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন যে নিবন্ধক কার্যালয়ে সম্পন্ন হয়েছে, সেই কার্যালয়ে মৃত্যু নিবন্ধনের আবেদন গ্রহণ করা হয়। বিধিমালায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর আগে স্থায়ীভাবে বসবাস করা এলাকার সংশ্লিষ্ট নিবন্ধকের মাধ্যমে নিবন্ধনের সুযোগের কথাও রয়েছে।

মৃত্যু সনদ পাওয়ার জন্য প্রথমে অনলাইনে বা মুদ্রিত ফরমে আবেদন করতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। নিবন্ধক আবেদনকারীর পরিচয় ও মৃত ব্যক্তির তথ্য যাচাই করবেন। সবকিছু সঠিক পাওয়া গেলে নিবন্ধন সম্পন্ন করে মৃত্যু নিবন্ধন সনদ প্রদান করা হয়।

জন্ম নিবন্ধন নম্বর না থাকলে বা মৃত ব্যক্তির পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য অনলাইনে না পাওয়া গেলে নিজে থেকে নতুন বা অনুমানভিত্তিক নম্বর দিয়ে আবেদন করবেন না। সংশ্লিষ্ট নিবন্ধকের কার্যালয়ে বিষয়টি জানিয়ে পরবর্তী করণীয় জেনে নিন।

মৃত্যু সনদ অনলাইন চেক করার নিয়ম

মৃত্যু নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পর সনদের তথ্য অনলাইনে যাচাই করা যায়। এর জন্য রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের নির্ধারিত অনলাইন যাচাই সেবা ব্যবহার করতে হবে।

মৃত্যু সনদ অনলাইন চেক করতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:

1. প্রথমে সরকারি মৃত্যু নিবন্ধন তথ্য যাচাই পেজে প্রবেশ করুন।

2. মৃত ব্যক্তির ১৭ অঙ্কের মৃত্যু নিবন্ধন নম্বর লিখুন।

3. মৃত্যুর তারিখ নির্ধারিত ফরম্যাটে লিখুন।

4. স্ক্রিনে প্রদর্শিত ক্যাপচা বা নিরাপত্তা যাচাই সম্পন্ন করুন।

5. এরপর যাচাই বা অনুসন্ধান অপশনে ক্লিক করুন।

তথ্য সঠিক থাকলে অনলাইনে মৃত্যু নিবন্ধনের রেকর্ড দেখা যাবে। সরকারি যাচাই পেজে স্পষ্টভাবে ১৭ অঙ্কের মৃত্যু নিবন্ধন নম্বর এবং মৃত্যুর তারিখ দিয়ে রেকর্ড যাচাই করার নির্দেশনা দেওয়া আছে।

যাচাই করার সময় মৃত্যু নিবন্ধন নম্বর ও মৃত্যুর তারিখ সঠিকভাবে লিখতে হবে। একটি অঙ্ক ভুল হলেও রেকর্ড পাওয়া নাও যেতে পারে। বারবার চেষ্টা করেও তথ্য না পেলে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধক কার্যালয়ে যোগাযোগ করুন।

মৃত্যু সনদ ডাউনলোড করবেন যেভাবে

অনেকেই মনে করেন মৃত্যু নিবন্ধনের তথ্য অনলাইনে দেখা গেলেই সেখান থেকে সরাসরি সরকারি মৃত্যু সনদ PDF ডাউনলোড করা যাবে। কিন্তু অনলাইনে তথ্য যাচাই এবং সরকারি সনদের প্রতিলিপি বা পুনর্মুদ্রণ এক বিষয় নয়।

BDRIS হোমপেজে মৃত্যু নিবন্ধন তথ্য অনুসন্ধান এবং মৃত্যু নিবন্ধন সনদ পুনর্মুদ্রণের জন্য পৃথক সেবা রয়েছে।

সনদ হারিয়ে গেলে, নষ্ট হলে বা আবার কপি প্রয়োজন হলে মৃত্যু নিবন্ধন সনদ পুনর্মুদ্রণ অপশন ব্যবহার করতে হবে। সেখানে পোর্টালের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আবেদন করতে হয়। আবেদন গ্রহণের পর সংশ্লিষ্ট নিবন্ধক কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করে সনদের প্রতিলিপি সংগ্রহ করতে হবে।

অন্যদিকে, শুধু মৃত্যু নিবন্ধনের তথ্য যাচাই করতে চাইলে ১৭ অঙ্কের মৃত্যু নিবন্ধন নম্বর ও মৃত্যুর তারিখ দিয়ে অনলাইন যাচাই সেবা ব্যবহার করুন। যাচাই পেজের ফলাফলকে নতুন সনদ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

মৃত্যু নিবন্ধন আবেদনপত্র প্রিন্ট না হলে কী করবেন?

অনলাইনে আবেদন করার পর অনেক সময় আবেদনপত্র প্রিন্ট করতে সমস্যা হয়। কখনো আবেদন নম্বর খুঁজে পাওয়া যায় না, কখনো ওয়েবসাইটে তথ্য প্রদর্শিত হয় না, আবার কখনো প্রিন্ট বাটনে ক্লিক করলেও কিছু হয় না।

এ ধরনের সমস্যা হলে কয়েকটি বিষয় পরীক্ষা করুন।

আবেদন নম্বর সঠিক আছে কি না: আবেদন জমা দেওয়ার পর পাওয়া নম্বরটি ভালোভাবে মিলিয়ে নিন। ভুল নম্বর দিলে আবেদন খুঁজে পাওয়া কঠিন হতে পারে।

জন্ম নিবন্ধন নম্বর ও মৃত্যুর তারিখ মিলিয়ে দেখুন: আবেদন অনুসন্ধানের সময় পোর্টালে যে তথ্য চাওয়া হয়, তা মূল নথির সঙ্গে মিলিয়ে দিন।

ব্রাউজারের সমস্যা আছে কি না: অন্য ব্রাউজার দিয়ে চেষ্টা করুন অথবা ব্রাউজারের পপ-আপ ব্লক সেটিং পরীক্ষা করুন। কখনো প্রিন্ট পেজ নতুন উইন্ডোতে খুলতে পারে।

PDF হিসেবে সংরক্ষণ করুন: প্রিন্টার না থাকলে কম্পিউটারের Print অপশন থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।

নিবন্ধক কার্যালয়ে যোগাযোগ করুন: আবেদনটি খুঁজে না পেলে বা অনলাইন সিস্টেমে সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের নিবন্ধক কার্যালয়ে যোগাযোগ করুন।

অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার পর আবেদনপত্রে ভুল থাকলে নিজে থেকে নতুন আবেদন জমা দেওয়ার আগে নিবন্ধকের পরামর্শ নিন। কারণ একই ব্যক্তির একাধিক আবেদন তৈরি হলে যাচাইয়ের সময় জটিলতা হতে পারে।

মৃত্যু নিবন্ধন করতে কত দিন সময় লাগে?

মৃত্যু নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র সময়মতো প্রস্তুত করা জরুরি। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনসংক্রান্ত বিধিমালায় মৃত্যুর তথ্য নিবন্ধকের কাছে পাঠানোর দায়িত্ব এবং নিবন্ধন সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হয়েছে।

আবেদন জমা দেওয়ার পর নিবন্ধক আবেদনকারীর পরিচয়, মৃত ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য এবং মৃত্যুর প্রমাণ যাচাই করেন। তথ্য সঠিক ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পূর্ণ থাকলে বিধিমালায় নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। তবে কোনো তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে বা কাগজপত্রে ঘাটতি থাকলে সময় বেশি লাগতে পারে।

তাই আবেদন করার আগে সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করা এবং প্রয়োজনীয় নথি সংযুক্ত করা ভালো।

মৃত্যু নিবন্ধন আবেদনপত্র ও মৃত্যু সনদ নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন

মৃত্যু নিবন্ধন আবেদনপত্র অনলাইনে প্রিন্ট করা যায় কি?

হ্যাঁ। BDRIS ওয়েবসাইটে মৃত্যু নিবন্ধন আবেদন প্রিন্ট করার জন্য আলাদা অপশন রয়েছে। অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার পর আবেদনপত্রটি প্রিন্ট করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সংশ্লিষ্ট নিবন্ধকের কার্যালয়ে জমা দিতে হয়।

মৃত্যু নিবন্ধন আবেদনপত্র প্রিন্ট করতে কী লাগে?

আবেদন অনুসন্ধানের জন্য পোর্টালে চাওয়া তথ্য দিতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার সময় পাওয়া আবেদন নম্বর ও প্রয়োজনীয় পরিচিতিমূলক তথ্য সংরক্ষণ করে রাখা ভালো।

মৃত্যু নিবন্ধন ফরম কোথায় পাওয়া যাবে?

রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটের ডাউনলোড অংশে মৃত্যু নিবন্ধন আবেদনপত্র পাওয়া যায়। এছাড়া সংশ্লিষ্ট নিবন্ধক কার্যালয় থেকেও নির্ধারিত মুদ্রিত ফরম সংগ্রহ করা যায়।

মৃত্যু সনদ অনলাইনে যাচাই করতে কী লাগে?

অনলাইনে মৃত্যু নিবন্ধনের তথ্য যাচাই করতে ১৭ অঙ্কের মৃত্যু নিবন্ধন নম্বর এবং মৃত্যুর তারিখ প্রয়োজন হয়।

মৃত্যু নিবন্ধন সনদ কি অনলাইন থেকে ডাউনলোড করা যায়?

অনলাইনে মৃত্যু নিবন্ধনের তথ্য যাচাই করার সুবিধা রয়েছে। তবে তথ্য যাচাইয়ের ফলাফল এবং সরকারি সনদের প্রতিলিপি এক নয়। সনদের কপি প্রয়োজন হলে BDRIS-এর মৃত্যু নিবন্ধন সনদ পুনর্মুদ্রণ সেবা অথবা সংশ্লিষ্ট নিবন্ধক কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

মৃত ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন না থাকলে কী করতে হবে?

মৃত ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন না থাকলে নিজে থেকে কোনো নম্বর তৈরি করে আবেদন করা যাবে না। সংশ্লিষ্ট নিবন্ধক কার্যালয়ে যোগাযোগ করে মৃত ব্যক্তির পরিচয় ও জন্ম নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে করণীয় জেনে নিতে হবে।

অনলাইনে আবেদন করার পর কি নিবন্ধকের কার্যালয়ে যেতে হবে?

হ্যাঁ। অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার পর আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট নিবন্ধকের কাছে জমা দিতে হতে পারে। আবেদন সম্পন্ন করার আগে পোর্টাল ও নিবন্ধক কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

উপসংহার

মৃত্যু নিবন্ধন আবেদনপত্র প্রিন্ট করার জন্য BDRIS ওয়েবসাইটে মৃত্যু নিবন্ধন অংশের ‘আবেদন প্রিন্ট’ অপশন ব্যবহার করতে হবে। অনলাইনে নতুন আবেদন জমা দেওয়ার পর আবেদন নম্বর সংরক্ষণ করা এবং প্রিন্ট করা আবেদনপত্র প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সংশ্লিষ্ট নিবন্ধকের কার্যালয়ে জমা দেওয়া জরুরি।

নিবন্ধন সম্পন্ন হলে ১৭ অঙ্কের মৃত্যু নিবন্ধন নম্বর ও মৃত্যুর তারিখ দিয়ে অনলাইনে তথ্য যাচাই করা যায়। আর সনদের কপি হারিয়ে গেলে বা পুনরায় প্রয়োজন হলে সনদ পুনর্মুদ্রণের সেবা ব্যবহার করতে হবে। সঠিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় নথি জমা দিলে মৃত্যু নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ হয় এবং ভবিষ্যতে সরকারি বিভিন্ন কাজে মৃত্যু সনদ ব্যবহার করা যায়।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

বিশেষ সংবাদ

নোয়াখালী রুটে নতুন ট্রেন ‘সুবর্ণচর এক্সপ্রেস’, চালু হতে লাগবে আরও কত দিন?

0
নোয়াখালী অঞ্চলের রেল যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে প্রায় ৪০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এর আওতায় লাকসাম থেকে নোয়াখালী পর্যন্ত ৪৮ থেকে ৫০ কিলোমিটার...

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বৈষম্যহীন দেশ গড়ার আহ্বান ঢাবি উপাচার্যের

0
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনা ধারণ করে বৈষম্যহীন, সমৃদ্ধ, প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন দেশ গঠনে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আন্তরিকতার সঙ্গে...

সংঘাতের পরিচিতি ছাড়িয়ে পর্যটকদের আকর্ষণ করছে মোগাদিশু

0
আত্মঘাতী বোমা হামলা, গৃহযুদ্ধ ও নিরাপত্তাহীনতার পরিচিতি পেছনে ফেলে সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিশুকে নতুনভাবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে কাজ করছেন স্থানীয় তরুণী সুদি। ভারত মহাসাগরের...

কীভাবে মাঝ আকাশে জড়িয়ে গেল দুই স্কাইডাইভারের প্যারাস্যুট?

0
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় দুই স্কাইডাইভারের মৃত্যুর ঘটনায় সামনে এসেছে অবতরণের সময় মাঝ আকাশে সংঘর্ষের বিষয়টি। ভূমি থেকে মাত্র ৪৫ মিটার উচ্চতায় তাঁদের প্যারাস্যুট একে অপরের...

দিনাজপুর-ঢাকা রুটে নতুন রেলপথ নির্মাণ করছে সরকার

0
উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার রেল যোগাযোগ সহজ ও দ্রুত করতে নতুন রেলপথ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রায় ৩১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার রেল ও...