সকালের নাশতা কিংবা বিকেলের আড্ডা—চা ছাড়া অনেকের দিনই যেন অসম্পূর্ণ। কিন্তু প্রতিদিনের এই অভ্যাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকতে পারে স্বাস্থ্যঝুঁকি। বিশেষ করে ধোঁয়া ওঠা অতিরিক্ত গরম চা পান করলে খাদ্যনালির ক্ষতি হতে পারে এবং বাড়তে পারে ক্যানসারের ঝুঁকি।
সম্প্রতি এক গবেষণায় চা পানের সঙ্গে হৃদ্রোগের ঝুঁকির সম্পর্ক তুলে ধরেছেন গবেষকেরা। চীনের ৩০ থেকে ৭৯ বছর বয়সী ৪ লাখ ৮৫ হাজারের বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। প্রায় ৯ বছর ধরে তাঁদের চা পানের অভ্যাস, চায়ের ধরন, ঘনত্ব ও তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ করা হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত চা পানকারীদের মধ্যে হৃদ্রোগের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ কম। তবে চায়ের তাপমাত্রার ক্ষেত্রে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। যাঁরা ধোঁয়া ওঠা অতিরিক্ত গরম চা পান করেন, তাঁদের মধ্যে হৃদ্রোগের ঝুঁকি প্রায় ১৬ শতাংশ বেশি দেখা গেছে।
কতটা গরম চা বিপজ্জনক?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার পানীয় নিয়মিত পান করলে খাদ্যনালির ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। অতিরিক্ত গরম পানীয় খাদ্যনালির কোষের ক্ষতি করতে পারে। তাই ফুটন্ত বা ধোঁয়া ওঠা অবস্থায় চা পান না করে কিছুটা ঠান্ডা হওয়ার পর পান করা ভালো।
ব্ল্যাক টি নাকি গ্রিন টি?
গবেষণায় গ্রিন টির তুলনায় ব্ল্যাক টির সঙ্গে হৃদ্যন্ত্রের বেশি উপকারের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। পাশাপাশি চায়ের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের প্রদাহ কমাতে এবং দীর্ঘমেয়াদি কিছু রোগের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।
গবেষণায় সপ্তাহে নিয়মিত ৬ থেকে ৮ কাপ চা পানের কথাও উঠে এসেছে। তবে চায়ের পরিমাণ ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা ও ক্যাফিন সহ্য করার ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে।
চা পানের ক্ষেত্রে সতর্কতা
ফুটন্ত বা অতিরিক্ত গরম চা পান করবেন না।
চা কিছুটা ঠান্ডা বা ঈষদুষ্ণ হলে পান করুন।
অতিরিক্ত চিনি দিয়ে চা পান করার অভ্যাস কমান।
চায়ের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাবার ও নিয়মিত শরীরচর্চায় গুরুত্ব দিন।
মনে রাখতে হবে, শুধু চা পান করলেই হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। সুস্থ থাকতে প্রয়োজন সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। তাই প্রিয় চায়ের কাপে চুমুক দেওয়ার আগে তাপমাত্রার দিকে রাখুন বাড়তি নজর।













